প্রধান বিচারপতি শুক্রবার বিদেশ যাচ্ছেন, ফিরবেন ১০ নভেম্বর: আইনমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক

আরটিএনএন

ঢাকা: আগামীকাল শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। বিচারপতি সিনহা অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে আগামী ১০ নভেম্বর দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশে যাওয়ার অনাপত্তিপত্র ও ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে আইনমন্ত্রণালয়।

 

এছাড়া বুধবার রাতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে সরকারি আদেশের (জিও) অনুমতিপত্রে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

আইন সচিব জানান, প্রধান বিচারপতির বিদেশ যাওয়া সংক্রান্ত আবেদনের সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি রাত সাড়ে ৮টার দিকে সই করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ফাইলটি আইন মন্ত্রণালয়ে আসার পর জিও প্রকাশ করা হবে। এর আগে দুপুরে নথিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সই করেন বলে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

 

বুধবার দুপুর ১২টা ৫৪ মিনিটে রাজধানীর হেয়ার রোডে প্রধান বিচারপতির বাসায় যান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলেটেশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. একেএম সালেক। এক মাসের ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দুপুর দেড়টায় তিনি বেরিয়ে যান।

 

প্রসঙ্গত, বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশের পর থেকে মন্ত্রী-এমপিদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধান বিচারপতি। জাতীয় সংসদেও তার সমালোচনা করা হয়। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে অসুস্থ মেয়েকে দেখতে কানাডায় যান প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। সেখান থেকে তিনি একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ১৮ সেপ্টেম্বর জাপানে যান।

 

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে কানাডা ও জাপান সফর শেষে দেশে ফেরেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সাপ্তাহিক ছুটি, বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ছুটি এবং কোর্টের অবকাশের কারণে দীর্ঘ ৩৯ দিন পর ২ অক্টোবর থেকে সুপ্রিমকোর্টে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে আবারো একমাসের ছুটির আবেদন করেন তিনি। পরে তা আরো ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে।