রাজনীতিবীদরাও জানেন না মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ কি: ড. মিজান


নিজস্ব প্রতিনিধি

আরটিএনএন

ইবি: মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সভাপতি ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, আমাদের দেশে অনেক রাজনীতিবীদ আছেন যারা নিজেরাও জানেনা মুক্তিযুদ্ধের মুল্যবোধটা আসলে কি?

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার শেষ দিন মঙ্গলবার দুপুরে বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে  এ কথা বলেন ড. মিজানুর রহমান।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত মূল্যবোধটি জানতে চাই তাহলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখের মুজিব নগরে যেখানে আমাদের স্বাধীনতার ঘোষনা পত্র গঠিত হয়েছিল’।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা শুধু না এখানে উপস্থিত সকল ছাত্র-ছাত্রীরা সংবিধান নামক দলিলটি একবার হলেও পড়ে দেখেছেন। এই দলিলে কি বলা হয়েছে এবং সেই দলিলে যেটি মূল ইংরেজীতে লেখা হয়েছে সেখানে একটি বাক্য রয়েছে যেটি আমাদের প্রায়ত প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহম্মেদ নিজে পেন্সিল দিয়ে কেটে দিয়ে ছিলেন। আর সেখানে তিনি লিখে দিয়েছিলেন কেন আমরা মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছি।

বাংলাদেশের জনগনের জন্য নিশ্চিত করবার জিনিসটা হলো, সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবসত্ত্বার মর্যাদা এবং আজকে যদি আমারা আধুনিক ২০১৭ সালের ভাষায় কথা বলি তাহলে এই ভাষায় বলতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সমতা যোগ সামাজিক ন্যায়বিচার যোগ মানবসত্ত্বার মর্যাদা এই তিনটিকে একত্রিত করি তাহলে এর নাম হয়ে যায় মানবাধিকার। তাহলে যদি এটা হয়ে থাকে তাহলে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ হচ্ছে বাংলাদেশ হবে একটি মানবাধিকারের ধারনার উপর প্রতিষ্ঠিত একটি প্রজাতন্ত্র। সুতরাং এই রাষ্ট্রটিকে এমন আচারণ করতে হবে যেখানে মানুষের মর্যাদা সর্বদায় সুরক্ষিত থাকবে এবং অরক্ষিত থাকবে’।

ক্ষমতায় কে আসলো সেটা দেখার বিষয় না কিন্তু রাষ্ট্র যেন নাগরিকের সুষ্ট মর্যাদা দিতে পারে সেটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। আমরা চাই সেটাই যেন এই বাংলার মাটিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি ডিবেটরদের উদ্দেশ্যে করে আরো বলেন, ‘যুক্তির মাধ্যমে অন্য পক্ষকে পরাজিত করাই ডিবেটরদের কাজ। ডিবেটররা কখনো তর্কের মাধ্যমে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করতে পারেনা বরং তারা তাদের যুক্তি খন্ডন করে পতিপক্ষকে ঘায়েল করে’।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেডিং সোসাইটির মডারেটর প্রফেসর ড. মামুনুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ইংরেজী বিভাগের প্রফেসর ড. রেজাউল হকের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. সেলিম তোহা।

পরে বাংলা ও ইংরেজী বিতর্ক প্রতিযোগীতার ফাইনাল পর্ব অনুষ্টিত হয়। বাংলা বিতর্ক প্রতিযোগীতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে এবং ইংরেজী বিতর্ক প্রতিযোগীতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে।