এবার ক্যারোলিনার স্কুলে ইসলামি শিক্ষা বন্ধের ষড়যন্ত্র!


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আরটিএনএন

ক্যারোলিনা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনার স্কুলগুলোতে ইসলামি শিক্ষা নিয়ে কিছু কট্টরপন্থীর অভিযোগের কারণে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সাউথ ক্যারোলিনায় স্কুল স্টান্ডার্ন্ড ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত। যেটি ২০১১ সাল থেকে চালু হয়।

চলতি মাসের গোড়ার দিকে অ্যালস্টোন মিডল স্কুলের একজন ছাত্রের মা স্থানীয় একটি টেলিভিশন স্টেশনে অভিযোগ করেন যে, তার সন্তানের সমাজবিদ্যা ক্লাসে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ সম্পর্কে একটি শিট দেয়া হয়েছে; যাতে ইসলামি মতবাদের রূপরেখা বর্ণনা করা হয়েছে।

তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেন, স্কুলে যৌনশিক্ষার মতোই ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়ার আগে পিতামাতার অনুমতি নেয়া উচিৎ। যদিও তিনি তার সঠিক পরিচয় গোপন রাখেন।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের মুখপাত্র রায়ান ব্রাউন বলেন, ‘আমরা অবশ্যই বুঝতে পারছি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেই ইসলামি শিক্ষা নিয়ে বাবা-মায়েরা উদ্বিগ্ন হচ্ছেন. ...। কিছু বাগাড়ম্বরপূর্ণ কথাবার্তার প্রকাশ হওয়ায় তারা এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে চিন্তা করছে।’

তিনি বলেন, ‘যদিও গত সপ্তাহ পর্যন্ত আমরা এ বিষয়ে কোন একক অভিযোগ পাইনি।’

ব্রাউন জানান, স্কুলগুলোতে ইসলামি শিক্ষা নিয়ে সামাজিক মিডিয়া, ই-মেইল এবং ফোন কলের মাধ্যমে ১০টির কম অভিযোগ এসেছে। তাদের অধিকাংশই দক্ষিণ-পশ্চিমের রক্ষনশীল খ্রিস্টান পরিবার থেকে এসেছে।

তিনি আরো জানান, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিযোগ এসেছে টেক্সাস এবং ওকলাহোমা থেকে ফেসবুক ও টুইটারের মাধ্যমে।

ডোরচেস্টার ডিস্ট্রিক্টের মুখপাত্র প্যাট রায়নর জানান, চলতি মাস পর্যন্ত পাঠ্যক্রম সম্পর্কে তিনি কোন অভিযোগ পাননি।

তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অনেক কিছুই প্রচারিত হচ্ছে। সেখানে এক নারী ও পুরুষ নিজেদেরকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়েছে, কিন্তু তারা সত্যিই তাদের বাবা-মা কিনা তা চিহ্নিত করা হয়নি।’

রাজ্য জুড়ে ষষ্ঠ গ্রেডের ক্লাসে বিভিন্ন ধর্ম, অর্থনীতি, সামাজিক কাঠামো ও ভূগোল বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হয়ে থাকে।

রায়নর বলেন, ‘তারা (ছাত্ররা) সভ্যতার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অধ্যয়ন করে থাকে এবং এসব কিছু যে কোনো সভ্যতার সংস্কৃতির সঙ্গে মিলে যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ইসলাম ছাড়াও সেখানে খ্রিস্টান, ইহুদি ধর্ম, বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে ছাত্রদের শিক্ষা দেয়া হয়। এটা শুধুই সংস্কৃতির একটি শিক্ষা। এটি কোন মতেই ধর্মীয় কোর্স নয়।’

ব্রাউন জানান, রাজ্যের সমাজবিদ্যা অধ্যয়নের স্টান্ডার্ন্ড ছয় বছরের এবং অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে বর্তমানে এটি পর্যালোচনাধীনে রয়েছে।

তিনি আরো জানান, এই মান একটি চক্রাকার ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ‘ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের শিক্ষার বিষয়টি মান অনুযায়ী আছে। এর মাধ্যমে কিছু লোককে উসকে দেয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে; যা আমরা কিছু ধরেই লক্ষ্য করছি।’

তিনি জানান, মান অনুযায়ী সেখানে তওরাত ও বাইবেল সম্বন্ধেও শিক্ষা দেয়া হয়।

তিনি বলেন, আপনি যদি ১৮৭ পৃষ্ঠার ওই বই অনুসন্ধান করেন, তাহলে মাত্র দুইবার আপনার কাছে ‘ইসলাম’ প্রদর্শিত হবে। অন্যদিকে, খ্রিস্টান সম্পর্কে আপনি অন্তত ২০ দেখতে পাবেন।’

সূত্র: দ্যা পোস্ট এন্ড কুরিয়ার